জিবিসি ও ইবলিশ

লেখক তাপস্রাং সরোজ ম্রং একবার একটা কথা বলে আমাকে চমকে দিয়েছিলেন। কোনো গ্রামে ব্যাপ্টিস্ট সম্প্রদায়ের লোক সংখ্যাগরিষ্ট মানে, এবং যেদিকে তারা আছে, সেখানে কোনো না কোনো ঝামেলা লেগে আছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে হিংসা-প্রতিহিংসা প্রবল। এতো প্রবল, কবেকার দ্বন্দ্ব কলহ জিইয়ে রাখে। চরিতার্থ করতে সুযোগ খুঁজে। এটা অন্য সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে দেখা যায় না। দেখা গেলেও হিসেবে ধরা যায় না। অথচ খ্রিস্টধর্ম পরার্থবাদী, প্রতিবেশীকে ভালোবাসতে বলে। এটি তারা ধারন করে না। বাইবেলে বর্ণিত ফরিশিরা যেমন সবসময় সবজায়গায় ধর্ম ধর্ম করে, ঈশ্বর ঈশ্বর করে, তারাও তেমনি। ধর্মকে ঢাল হিসেবে সামনে রাখে। কিন্তু সবই লোক দেখানো। এ বক্তব্য অতি সরলীকৃত মনে হয় কিন্তু গারো অঞ্চলে জিবিসি বা ব্যাপ্টিস্ট চার্চের আগমন ও অন্য সম্প্রদায়ের আগমন সম্পর্কে জ্ঞান নিলে বিলকুল জানা হয়ে যায় গোড়া থেকে ব্যাপ্টিস্টদের মধ্যে স্বার্থ, দ্বন্দ্ব, কলহ, হিংসা, গোঁড়ামি, কার্যত প্রতিযোগীতার মতো ছিলো। এবং এ প্রতিযোগীতাই গারো অঞ্চলে অন্য সম্প্রদায়ের আগমণ ঘটায়।

এখন, আমাদের গ্রামগুলোর দিকে তাকাই, এর শতভাগ মিল পাওয়া যায়। মিথ্যা বা বানিয়ে বলা না। দেখা যায়। কোনো গ্রাম নেই যেখানে জিবিসি আছে দ্বন্দ্ব কলহ নেই; হিংসা-প্রতিহিংসা নেই। আমাদের গ্রাম মধুকুড়ার কথায় বলিত্রিশটা ব্যাপ্টিস্ট পরিবার আছে কি নেই, দুই ভাগে, দুই দলে বিভক্ত হয়ে আছে। দুই দলের আবার আলাদা উপাসনালয়। অথচ কেউ নানিজেরা নিজেরা, প্রতিবেশী, ও আত্মীয়-স্বজন। তাদের কথানুযায়ী রবিবারে দশ-বারজন গীর্জায় আসে। কোনো কোনো রবিবারে আরো কম। অথচ এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এক দলের লোক আরেক দলের লোকের সাথে দেখা হলে কুশলাদি দূর, জিজ্ঞেস করে না। মুখ ভার করে পাশ কেটে চলে যায়। সামাজিক পারিবারিক আচার অনুষ্ঠানগুলোতেও অংশগ্রহণ করে না। ভবিষ্যতে যে তাদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, প্রেম, মিল, ঐক্য আসবেএ সম্ভাবনা দেখি না। তবে হিংসা-প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে যে জেদ, মূর্খতা, গোঁড়ামি, দরকার কানায় কানায় পূর্ণ আছে। নির্লজ্জের মতো এর যত্রতত্র প্রকাশ আছে।

এটা শুধু যে মধুকুড়ার অবস্থা, তা না। জিবিসির প্রতিটা বিভাগ, প্রতিটা গ্রাম, প্রতিটা মন্ডলীর অবস্থা। এমন গ্রাম আছে যেখানে এক দলের সদস্যরা আরেক দলের সদস্যদের গীর্জাঘরে উপাসনা করতে পর্যন্ত বাঁধা দেয়। মিটিং করে ঘোষণা করে তারা গীর্জাঘরে উপাসনা করতে পারবে না। হালুয়াঘাটের বোয়ালমারা ও জয়রামকুড়াতে এ অবস্থা তৈরি হয়েছিলো। লেখক হেমার্সন হাদিমার সাথে একবার এ বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছিলো যখন আমরা খু-রাং পত্রিকা প্রকাশ করি। তিনি বলেছিলেন, দ্বন্দ্ব, কলহ, এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে এটা আর জিবিসির মধ্যে নেই, জিবিসির কর্মকর্তাদের মধ্যে নেই, জিবিসির পাস্টর পালকদের মধ্যে নেই। গ্রামে গ্রামে, পরিবারে পরিবারে, আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বলা ভালো, ব্যক্তির ইমেজ, দলের ইমেজ, ধরে রাখতে ছড়ানো হয়েছে। আর এরা এতো খ্রিস্টান [ছদ্মবেশি খ্রিস্টান] হয়েছে জিবিসিকে আদালতে তুলেছে। জিবিসি কি অন্য কারোর? তা তো না। তাদের, আমাদের, সবার। তাহলে?

নিম্ন আদালত রায় আদেশ ডিক্রি দিচ্ছে, সেটা নিয়েও প্রোপাগান্ডা, এটা নিয়েও মিথ্যাচার। সভ্য-সভ্যারা চিরকাল অন্ধ, গোঁড়া, বোকা ছিলো, আরও বোকা বানানো হয়েছে। নিম্ন আদালতের রায় না মেনে উচ্চ আদালতে গিয়েছে! বুদ্ধিমান সদস্য-সদস্যা হলে, বিচক্ষণ হলে, সচেতন হলে, সমস্যা গোড়াতেই শেষ হতো। মিটমাট হতো। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেরকে বাধ্য করা, বা যিনি অভিযুক্ত তিনি নিজে চ্যালেঞ্জ করে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দায়মুক্তি নেওয়া। কেউই এ-পথ অনুসরণ করেনি। বাধ্য হয়নি। বাধ্য করা হয়নি। সদয়ভাব বা খ্রিস্টের আদর্শ দূর, বুদ্ধিদীপ্ত ও বিচক্ষণ আচরণ কেউই করেনি। উল্টো দল পাকিয়েছে। পক্ষ জুটিয়েছে। বিভক্তি এনেছে। নোংরামি ছড়িয়েছে। বিশৃঙ্খলা করেছে। একে-অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছে। এ জন্য পক্ষাবলম্বন নেয়া মানেই সঠিক, এটা ধরে নেয়া, বা এ ধরনের প্রবণতা নির্বুদ্ধিতা ও বিপজ্জনক। এখন এও শোনা যায়, প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনের মৃতের সৎকারে বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অনেকেই উপস্থিত হয় না। এত ঘৃণা, দ্বন্দ্ব, দ্বেষ, ছড়ানো হয়েছে।

কিছুদিন আগে [২১ মার্চ ২০২৫] এরকম হিংসা ও ঘৃণার আঁচ লেগেছে আমাদের পরিবারের ওপরও। ঝগড়া-বিবাদ নেই, জিনিসপত্র হারিয়ে যায় অজুহাতে আমাদের যাতায়াতের একমাত্র শতবর্ষী পারিবারিক রাস্তা মন্ডলীর পালক ও তার ভাই বেড়া দিয়ে আটকে দিয়েছে। যদিও রাস্তাটি তাদের জমির ওপর নয়, খালের পাড়, ও খাস জমি। প্রথমে নিজেরা ও পরে গ্রাম সভাপতির সাহায্যে মিটমাট করতে উদ্যোগী হই। তাদের সাফ কথা কোনো অবস্থাতেই রাস্তা ছাড়বে না। সাধারণ বিচারবোধ সম্পন্ন সামাজিক মানুষের দ্বারা এ ধরনের কাজ সম্পাদিত হয়, হতে পারে, ভাবা যায় না। এরকম কর্মকান্ড সাধারণত অনগ্রসর, পিছিয়ে পড়া, ইতর সমাজে ঘটে। তারপরও লক্ষ্য করেছি, এ ঘটনায় মধুকুড়া ব্যাপ্টিস্ট মন্ডলী, ও গ্রামবাসীও চুপ। অবশ্য মূঢ় ও বধির সমাজে এটাই স্বাভাবিক। ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক, নির্ণয় আশা করা যায় না। আর এরকম সমাজে লোকেরাও প্রশ্ন করতে শিখে না, প্রশ্ন করতে জানে না। বা, এ বোধ তাদের হয়-ই না। একজন পালক প্রতিবেশীর সাথে এমন আচরণ করতে পারে কিনা? এমন আচরণ পালকীয়, বা খ্রিস্টিয়ানসুলভ হলো কিনা? যে সংবেদনশীলতা একজন পালকের থাকা দরকার সেই সংবেদনশীলতা পালকের আছে কিনা? এমন সাধারণ প্রশ্নও এমন সমাজের লোকদের মধ্যে আসে না। তাহলে উপায়? উপায় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ করা। থানায় অভিযোগ দায়ের করা। জিবিসি প্রেসিডেন্টকে ফোনে মৌখিক বা লিখিত নালিশ করা। এগুলো হলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমরা এসব কিছুই করিনি। করলে রাস্তা দিতে বাধ্য থাকতো। পালকীয় পদ রহিত হতো। কিন্তু হিংসা ঘৃণা শেষ হতো না। এখন যে শেষ হয়েছে, থেমে গেছে, তা তো না। তারপরও এ ধরনের অশুভ ধর্মীয় নেতা ও লোকদের কবল হতে নিস্তার হওয়া চায়। সমাজের, মন্ডলীর, সকলের। সুস্থ সবল সামাজিক স্বাস্থ্যের স্বার্থে। কিন্তু আমরা তো সতর্ক জাতি না, সচেতন না।

তবে সাংসারেক গারো সমাজে গারোদের বেওয়াল [রীতি-নীতি, কৃষ্টি] এমন ছিলো না। লোকদের আচার-আচরণ ও মূল্যবোধ এতোটা নিচু ছিলো না। তখনকার দিনে [ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে, শিক্ষিত হওয়ার আগে] বয়োজৈষ্ঠরা, মুই-মুরব্বিরা, আড্ডায়, খোশগল্পে, বা সামান্য দোষ-ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে শুধরে দিতো, শিখিয়ে দিতো। অনাচার, দূরাচার, দেখা দিলে সাথে সাথে রফা করে দিতো। না হলে বৈঠক ডেকে মিমাংসা করে দিতো। কালক্ষেপণ করতো না। জিইয়ে রাখতো না। সামাজিক পারস্পরিক দায়বদ্ধতা মজবুত ছিলো। আন্তরিক ছিলো। এখন সামাজিক দায়বদ্ধতা, প্রতিবেশীর সমস্যায় প্রতিবেশী, একজনের সমস্যায় আরেকজন, বা সমাজের এগিয়ে আসা হয়ে গেছে আনুষ্ঠানিকতা। না বললে, না জানালে, কেউ এগিয়ে আসে না, কেউ এগিয়ে আসবে না। অভিযোগ না করলে কেউ কিছুই জানে না। সমাজের, মানুষের, আচরণ হয়ে গেছে দেখেও না দেখা, শুনেও না শোনা, জেনেও না জানা।

আমরা যে সমাজে, যে প্রকৃতিতে বাস করি, প্রকৃতির সেই চিরাচরিত স্বাভাবিক আচরণ আমাদের মধ্যে আর নেই। সে আচরণ আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ হতে উঠে যাচ্ছে। আমরা অনবরত দূরে সরে যাচ্ছি। দিনকে দিন অসভ্য জংলি আচরণে, কর্মকান্ডে, আমাদের স্বতঃস্ফূর্ততা বাড়ছে। আমরা নির্দয় নিষ্ঠুর হয়ে পড়ছি।

মন্দকে মন্দ, ভালোকে ভালো, বলার লোকও কমে যাচ্ছে। সমাজ নেমে যাচ্ছে। মানুষও। মানুষই আগে নামছে। মন্দকে মন্দ বলতেও সাত-পাঁচ ভাবছে। ভালোকে ভালো বলতেও। মানুষের ভেতরের সৎ সাহস, নীতি, নৈতিকতা, সুকুমার প্রবৃত্তি হারিয়ে যাচ্ছে। চারিদিকে শুধু চরিতার্থতার হিসেব-নিকেশস্বার্থপরতা, লোভ, ঈর্ষা, হিংসা, ক্ষোভ। মানুষ, সেই মানুষ নেই। প্রতিবেশও।

দুর্দশা দেখে, পালক ও তার ভাইয়ের কর্ম দেখে, কেউ কেউ শুধু বলেছে

 

ইয়া গামুদে নামজাজক, চেংঅনি মান্দিরাং আগানা

চিকো ওয়ালকো হামমোদে হননা নাংআনা;

রামাকোদে বেংনা নাংজানা,

বেংঅদে সিজোকনো জাংগিকোবা

গিপবিন জাংগিরাং বেংআনা॥

 

(বাংলায়)

 

এ কাজ ভালো হয় নাই, আগেকার মানুষেরা বলতো

কেউ আগুন পানি চাইলে দিতে হয়;

রাস্তা কখনো আটকাতে হয় না,

আটকালে মরণকালে আত্মাকেও

অন্য আত্মারা আটকে দেয়॥

 

এদিকে কালের পাস্টর পালকদের অযাচিত কর্মকান্ড, ও তাদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নিয়ে অমোক পাস্টরের কথা মন দিয়ে শুনি/অমোক পাস্টরের কথা কিছু কিছু মানি/অমোক পাস্টরের কথা চাউল ধোয়ার পানি এমন শ্লোক, মশকরা, কটাক্ষ, এখন যত্রতত্র শোনা যায়, যেখানে তিন প্রজন্মের, তিনরকম পাস্টরদের, ও তাদেরকে ভক্তি, শ্রদ্ধা, অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ আছে। যদিও এখন প্রথমোক্তজনেরা সমাজে অনুপস্থিত, সমাজ থেকে তাদের প্রস্থান ঘটে গেছে। নতুন করেও আবির্ভাব হচ্ছে না। দ্বিতীয়জনেরা আছে, কিন্তু তাদের সরব উপস্থিতি টের পাওয়া যায় কম। তৃতীয়জনেরা সর্বত্র, তাদের উপস্থিতিই এখন নিরঙ্কুশ। তাদের কর্মকান্ড গড়পড়তা, ভালো-মন্দ মিলিয়ে। লোকে তাদের ঠিক বুঝতে পারে না। সন্দেহের চোখে দেখে। সমীহ করে। তিরস্কারও করে। সমাজ, মন্ডলীর জন্য কখনো কখনো তারা বিড়ম্বনার, বিপজ্জনক।

যাই হোক, উল্লেখিত অপ্রীতিকর ঘটনা আমার ভেতর অনেকদিন ধরে সুপ্ত থাকা অতীব জরুরী ও দরকারি বিষয় উসকে সামনে এনেছে। সমাজে ইতোমধ্যে আমরা বিবিধ ইফেক্ট লক্ষ্য করেছি, দেখছি, দেখতে শুরু করেছি, যেগুলো সমাজের স্বাস্থ্যের জন্য আরামদায়ক ও সুখকর নয়। সমৃদ্ধি, শান্তি, সহায়ক নয়। যেটা আগেও বলেছি, এখনও বলি। আজকের জিবিসি এমনি এমনি দ্বি-খন্ডিত হয়নি। সভ্য-সভ্যারা এমনি এমনি দুই ভাগে বিভক্ত হয়নি। এমনি এমনি রেষারেষি, হিংসাতে জড়ায়নি। এমনি এমনি গ্রামে গ্রামে, মন্ডলীতে মন্ডলীতে, পরিবারে পরিবারে, দ্বন্দ্ব কলহ ছড়ায়নি। সামাজিক, পারিবারিক, মান্ডলীক বন্ধন ভেঙে পড়েনি। এ ধরনের [আমাদের গ্রামের] পালক বা ধর্মীয় নেতা আগেও ছিলো, এখন আরো রয়েছে, যারা প্রতিটা গ্রামে, প্রতিটা মন্ডলীতে ইবলিশ হয়ে হাজির আছে। যাদের কাজ ভাঙা। ভেঙে টুকরো আলাদা করা। হিংসা, কুৎসা, প্রতিষ্ঠা করা। শত্রুতা তৈরি করা। আমাদের গ্রামের লেম্যান মেম্বারদের ভেতর ফাটল ধরা, ভাগ হওয়া, পারস্পরিক শত্রুভাব বিরাজ করা, দুটি উপাসনালয় থাকা একই।

আমি মনে করি, আজকের জিবিসি ও সমাজে সামাজিক পারিবারিক মূল্যবোধ ভেঙে পড়া, অসুস্থ সংস্কৃতি বজায় থাকা, এসবের পেছনে মন্ডলীর এই পালকদের, এই ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা সর্বাগ্রে। সর্বত্র হিংসা, দ্বন্দ্ব, দ্বেষ, কোন্দল, ছড়াতে তারাই সহায়ক ভূমিকা নিয়েছে। তারা সৎ ও সতর্ক হলে, সততা নিয়ে চললে, দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হলে, পক্ষাবলম্বন না নিলে আজকে মন্ডলীতে মন্ডলীতে ভাঙন ধরে না, কোন্দল হয় না। লেম্যান মেম্বারদের মধ্যে হিংসা ঘৃণার উন্মেষ ঘটে না। শত্রুতা হয় না। জিবিসির এ পরিণতি হয় না।

তবে কর্মকর্তারা এটা বলে সান্ত¦না নেন, জিবিসিতে কোনো ভাগ নেই। জিবিসি এক ও অভিন্ন। দ্বি-খ-িত না। কতিপয় লোককে জিবিসি ইমপিচমেন্ট বা বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কৃতরা এখন জিবিসির কেউ না। তারা দল ভারি করে গোলোযোগ পাকাচ্ছে, সমস্যা সৃষ্টি করছে। বহু বছর ধরে তারা জিবিসিতে ছিল, জিবিসির নানা কর্মকা- ও ক্ষমতা কাঠামোর সাথে জড়িত ছিল, এটা তাদের মেনে নেওয়া কঠিন যে তারা এখন জিবিসির কেউ না। এটা ঈশ্বরেরই পরিকল্পনা। তা না হলে এই দুষ্ট লোকদের এক কাতারে আনা সম্ভব হতো না। মানুষ বা জিবিসির পক্ষে কখনোই সম্ভব ছিলো না এদেরকে একত্র করা। একসাথে বহিষ্কার করা। এরা একসাথে হয়েছে, জিবিসির মেমোরেন্ডামের বাইরে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে, জিবিসির সিদ্ধান্ত ও ঐতিহ্যকে তুড়ি মেরে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সদস্যদের ভুল বার্তা দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। উল্লেখ্য, পেশীশক্তি ও সহিংসতা আমাদের [জিবিসির] সাংগঠিক মূল্যবোধের পরিপন্থি। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের সময় লাগছে কিন্তু আমরা ধৈর্য হারাচ্ছি না। আমরা ধৈর্যের সাথে সবকিছু মোকাবেলা করছি। খুব শীঘ্রই সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

খুব শীঘ্রই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে কিনা? ডা. নির্জল চিসিক একবার সুন্দর একটি কথা আমাকে বলেছিলেন। জিবিসির ভেতরে বাইরে, পুরো শরীরে, যে ক্ষত তৈরি হয়েছে তা সহসায় ঠিক হওয়ার না। দীর্ঘদিন সেন্ট্রালে বিভাগে তিনি কাজ করে জেনেছেনক্ষত এতো গভীরে যে, কয়েক প্রজন্মেও সেরে উঠবে না। বা কখনোই সেরে উঠবে না। এ জন্য তিনি সারেন্দার করেছেন। সেন্ট্রাল ও বিভাগের আশা ত্যাগ করেছেন। যদি মেরামত করতে হয়, আগে নিজের ঘর, নিজের পরিবার, নিজের গ্রাম, মেরামত করতে হবে। আগে নিজের মন্ডলীর ক্ষত সারাতে হবে। এগুলো ঠিক হলেই, মেরামত হলেই, সব ঠিক হয়ে যাবে।

লেখাটি শেষ করার আগে যে কথা বলতে চাই, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেটা ইচ্ছে করে পুরো লেখায় একবারও বলিনি। জিবিসি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান না, এটি গারোদের একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান, যে প্রতিষ্ঠান গারোদের শিক্ষা-দিক্ষা, সামাজিক পারিবারিক মূল্যবোধ গঠন, সমাজ বিনির্মাণ ও প্রগতিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। জাতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। সমাজের আনাচে-কানাচে ছাপ রেখেছে। এখনো রেখে যাচ্ছে। এ বিষয় আমরা যেন কেউ হালকাভাবে না নিই। কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখি। এবং সতর্ক থাকি, এরকম একটা প্রতিষ্ঠানকে শেষ করে দিতে, নড়বড়ে করে দিতে, কোনো অশুভ শক্তি লিপ্ত আছে কিনাভেতরের ও বাহিরের।

লেখক : কার্তিক ঘাগ্রা

Post a Comment

0 Comments