আাবার তারুণ্যকে বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না।
যার মধ্যে সৌন্দর্য, সজীবতা, জীবনীশক্তি, উদ্দীপনা ইত্যাদি থাকে সেই তরুণ। অসম্ভবকে সম্ভব করার যে অদম্য শক্তি সেটাই তারুণ্য। অজানাকে জানা, অজেয়কে জয় করাই তারুণ্য।
যৌবন জীবনে একবারই আসে। একে বলা হয় তরুণ অবস্থা, প্রথম অবস্থা, কাঁচা অবস্থা।
কিভাবে আমরা এ সময় ও সুযোগকে হারায় সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মত— ‘যে তার যৌবনে পড়াশোনাকে অবহেলা করে সে তার অতীতকে হারায় এবং ভবিষ্যৎকে মেরে ফেলে (ইউরিপাইডস)।
যে তার যৌবন সিগারেট থেকে শুরু করে সে অসুস্থ হয়। আর যে তার যৌবন একটি মেয়েকে দিয়ে শুরু করে সে সবাইকে অসুস্থ করে দেয় (মেরী লিটল)।
আাবার ডায়াজিনেস বলেন, প্রতিটি সফলতার ভিত্তি হচ্ছে যৌবনের শিক্ষা।
যৌবনে সুশিক্ষা না পেলে সুন্দর জীবনের আশা আমরা কখনো করতে পারি না।
আজকে যে অবস্থানেই বিচরণ করি না কেন, কিভাবে সে অবস্থা থেকে রেহাই পাব তার কৌশল আমাদের আয়ত্ত ও রপ্ত করতে জানতে হবে।
সৈয়দ
মুজতবা আলী তার ‘বই
কেনা’
প্রবন্ধে লিখেছেন, মাছিকে যখনি ধরতে বা মারতে যায়
না কেন, ঠিক তখনি উড়ে যাবেই। কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে তার সমস্ত মাথায় গাদা গাদা চোখ বসানো আছে। তাই জ্ঞানি গুনি আনাতোল ফ্রাঁস দুঃখ করে বলেছেন, হায় আমার মাথার চতুর্দিকে যদি চোখ বসানো থাকত, তাহলে আচক্রবালবিস্তৃত এই সুন্দরী ধরণীর
সম্পুর্ণ সৌন্দর্য একসঙ্গেই দেখতে পেতুম।
ফ্রাঁস শান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন, কিন্তু আমার মনের চোখ কমানো তো সম্পুর্ণ আমার হাতে।
নানা জ্ঞানবিজ্ঞান যতই আমি আয়ত্ত করতে থাকি, ততই এক একটা করে আমার মনের চোখ ফুটতে থাকে। আবার বার্ট্রান্ড রাসেল বলেছেন, সংসারে জ্বালা যন্ত্রণা এড়ানোর প্রধান উপায় হচ্ছে, মনের ভেতর আপন ভূবন সৃষ্টি করে নেওয়া এবং বিপদকালে তার ভেতর ডুব দেওয়া। যে যত বেশি ভূবন সৃষ্টি করতে পারে, যন্ত্রণা এড়ানোর ক্ষমতা তার ততই বেশি হয়। অর্থাৎ সাহিত্যে শান্ত্বনা না পেলে দর্শন, দর্শন কুলিয়ে উঠতে না পারলে ইতিহাস, ইতিহাস হার মানলে ভূগোল... আরও কত কি! প্রতিটি মূহুর্তকে মূল্য দিতে শিখা, ছোট-বড় সব কাজকে গুরুত্বের সাথে করা।
বর্তমান যুগ ইন্টারনেটের যুগ। যেকোন বিষয় গুগোলে সার্চ করে পড়তে পারি। জল, স্থল, আঁকাশ, মহাকাশ, পর্বতারোহণ সবখানেই তারুণ্যের ছাপ রয়েছে। প্রত্যয় আর চেতনার উৎস হচ্ছে তারুণ্য। আমরা সবসময় তারুণ্যকে ধরে রাখি।


0 Comments