অধুনা গারো সমাজে চিরাচরিত যে গারো পারিবারিক কাঠামো, প্রথা বা চল ছিল এর বাইরে অনেক ঘটনায় ঘটে থাকে। এর মধ্যে পারিবারিকভাবে খরিদা ভূমি অনেক সময় পুরুষ তার নিজের নামে করে থাকে। কিংবা স্ত্রীর মাহারি থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তি দখল মূলে নিয়ে নিজের নামে করে থাকে। যদিও গারো প্রথানুযায়ী পারিবারিকভাবে খরিদা ভূমি ও পারিবারিক সম্পত্তির প্রকৃত ও একচ্ছত্র মালিক গৃহের কর্ত্রী কিংবা ইতোপূর্বে যিনি ওই পরিবারের নকনা নিযুক্তা হয়েছেন।
প্রচলিত এ রীতির অবমাননা এখন গারো সমাজে হরহামেশা দেখতে পাওয়া যায়, বিশেষ করে বাংলাদেশে। বস্তুত পারিবারিকভাবে খরিদা ভূমি গৃহের কর্তা পুরুষ নিজের নামে করে দূরদর্শিতার পরিচয় দিলেও প্রকৃতপক্ষে এটা যুগ যুগ ধরে বা আবহমানকাল থেকে চলে আসা গারো সমাজের সামাজিক, পারিবারিক ও মূল্যবোধ পরিপন্থী। প্রথা অবমাননা, মাহারি ও বংশানুক্রমে পরিবারের ভাবী উত্তরাধিকাদের সাথে চরম হঠকারি। আর পক্ষান্তরে এসব কর্মকান্ডই গারো সমাজ, প্রথা ও গারো পারিবারিক উত্তরাধিকার কাঠামোকে হুমকির মুখেই ঠেলে দেয়।
অন্যদিকে
গারো সমাজে এরকম ঘটনা আকছার ঘটছে বলেই গারোদের জমিজমা নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে, মামলা
মোকদ্দমা হলে, কোনভাবে জমি পুরুষের নামে হলে ‘স্বোপার্জিত’ শব্দটি মোকদ্দমায় জেতার
কৌশল হিসেবে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে আর অজান্তেই প্রচলিত গারো উত্তরাধিকার প্রথাকে
ভুলভাবে উপস্থাপনও করা হচ্ছে, হেয় করা হচ্ছে এবং মোকদ্দমাও সেইভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
যা আদৌ কাম্য নয়।


0 Comments