১৪
সেপ্টেম্বর ২০২০, পেগামারীর বাসন্তী রেমা ও গেটিস যেত্রার ৪০ শতক জমির ওপর চাষ করা
কলাগাছ নিধনের আগেও আগের মাসে- আগস্টের শেষদিকে আমলীতলায় ১০টি গারো পরিবারের ১৫
একর জমির ওপর চাষ করা হলুদ, আদা, আনারস, কলা ও পেঁপে গাছ একই কায়দায়, বিনা নোটিশে,
টাঙ্গাইল বনবিভাগের এই খুনে বন কর্মকর্তা জামাল হোসেন তালুকদার ও আব্দুল আহাদ
৭০-৮০ জন লেবার দিয়ে নিমেষেই গাছগুলো কেটে উপড়ে ট্রাক্টর দিয়ে গুড়িয়ে দেয়। পরে ওই
জমিতে কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের নামে একটি প্রজেক্টের সাইন বোর্ড টানিয়ে
দেয়। মধুপুরের গারো জনগোষ্ঠীর এক ভাই এই টানিয়ে দেওয়া সাইন বোর্ড নিয়ে তার ফেসবুক
স্ট্যাটাসে লিখেছে ‘ফসল নষ্টের পর- আমাদের মাননীয় স্ব-নাম ধন্য, যাকে আমরা ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি বলে জানি, মাননীয় কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপির নাম ব্যবহার করে সেই জায়গায় সাইন বোর্ড লাগিয়ে দিয়ে আসে!’ এই ভাইয়ের এভাবে সহজ ও সরল করে দেখা ও
উপস্থাপনের যৌক্তিক কি কারণ আমি অন্তত বুঝতে পারি নি। যেখানে সাইনবোর্ডই ওই
দস্যুতার, ওই দুর্বৃত্তের, ওই দখলদারিত্বের, ওই ১০টি গারো পরিবারের ভূমি ও বেঁচে
থাকার সম্বল হারানোর সার্টিফিকেট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সেদিন জমির মালিকরা জমির রেকর্ড কাগজ দেখালেও এই খুনে বন কর্মকর্তারা থামে নি। জমির মালিকদের কৃষকদের আহাজারিতে আমলীতলার আকাশ ধরিত্রী ভারি হলেও এই কর্মকর্তাদের বুক কেঁপে ওঠে নি। ধ্বংস যজ্ঞে ক্ষান্ত দেয় নি। এবারও বাসন্তী রেমার ক্ষেতভরা কলাগাছ নিধনেও এই খুনে কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর নামে এক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে বিনা নোটিশে, আইন বহির্ভূতভাবে পরিকল্পিত ধিরস্থির হত্যা যজ্ঞ ও দখলদারিত্ব চালিয়ে গেছে। আর ঘুরে ঘুরে এই সব দস্যুতা, দখলদারিত্ব ও উচ্ছেদ পায়তারার পেছনে রাজনীতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এসে গেছে। অথচ আমাদের সব ক্ষোভ বনবিভাগের ওপর দিয়ে গেলেও স্থানীয় রাজনৈতিক শক্তি ও ভূমিকা নিয়ে আমরা কেউ কিছু বলছি না। বিষয়টাকে সামনে তুলে ধরছি না। জাহাঙ্গীর কে? এখানে জাহাঙ্গীরদের ইন্টারেস্ট কী এর উত্তর জানা দরকার। হতে পারে এই উত্তরই এই দখলদারিত্ব ও উচ্ছেদ পায়তারার নির্ণায়ক হবে।
বিনা নোটিশে, আইন বহির্ভূত ভাবে, এত বড় দস্যুতা ও দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার হিম্মত বনবিভাগের আছে যুগযুগ একতরফাভাবে এই চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির ভেতর আমরা কেন ঘুরপাক খাব? অবস্থা ও পরিস্থিতি দৃষ্টে আমাদের কেন মনে হচ্ছে না, রাজনৈতিক শক্তি ও স্বার্থ প্রচ্ছন্নভাবে সক্রিয় না থাকলে এত বড় দখলদারিত্ব ও উচ্ছেদ ঘটনা বনবিভাগের একার দ্বারা বারবার ঘটানো সম্ভব না। আমরা কেন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবো না, স্থানীয় রাজনীতি স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন থাকলে, রাজনৈতিক শক্তি ও স্বার্থ জনবান্ধব থাকলে, বনবিভাগের কি করে সাহস হয় তাদেরই সামনে তাদেরই নাম ব্যবহার করে এই এলাকার জনগণের হকের ওপর দস্যুতার নৈরাজ্য কায়েম করে? আর ইতিহাস ঘাটলে এই সত্য বেরিয়ে আসে, এই এলাকার এই অধিবাসীদের এই সমস্যা রাজনীতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই সৃষ্টি করেছে। আর বনবিভাগ হলো সেই কাঁধ, যে কাঁধের ওপর বন্দুক রেখে এই রাষ্ট্র ও রাজনীতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এই অধিবাসীদের কিভাবে উচ্ছেদ করে, বন ধ্বংস করে, নিশ্চিহ্ন করা যায় এই দৃবৃত্তপনার নীলনকশায় ব্যস্ত।




0 Comments