নাংরীমা চার্চে যত অনিয়ম অরাজকতার মূলে একটি সিন্ডিকেট চক্র ‖ কার্তিক ঘাগ্রা ‖ খু•রাং



নাংরীমা চার্চ চার্চ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেন এত কথা ওঠছে, কেন চার্চের ভেতরকার কোন্দল দ্বন্দ্ব সামনে চলে আসতেছে? কেন সংকট তৈরি হচ্ছে? কেন বলা হচ্ছে চার্চকে ভাঙতে দেয়া যাবে না? এটি গারোদের প্রতিষ্ঠান, এটি টিকে থাকুক (আদৌ কি এসব বলার ও ভাবার দরকার ছিল, না কোন অবকাশ ছিল?)

কি কি বিষয় নিয়ে কথা ওঠছে? লঘুভাবে চার্চের ভেতরকার সদস্যদের মধ্যে এই চর্চা কি বছরের পর বছর ছিল না- একটা সিন্ডিকেট চার্চের ভেতর তৈরি হয়ে আছে? যারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে আধিপত্য বিস্তার ধরে রেখেছে। এই বিশ্বাস কি চার্চের সদস্যদের মধ্যে পোক্ত হয় নি- চার্চের স্বার্থের চেয়ে এখানে কতিপয়ের স্বার্থই অগ্রগণ্য? আর এসব অনিয়ম অরাজকতার কথা তুললেই এখানে হেনস্থা, অপমান ও অপদস্থের শিকার হতে হয়। হতে হয় বিরোধী, চক্ষুশূল।

আত্মসম্মান থাকতে থাকতে অতুল যেত্রা এই চার্চ কমিটি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কেন বেরিয়ে গিয়েছিলেন, এই আলোচনা কি চার্চ সদস্যদের মধ্যে থেমে আছে? না, থেমে থাকবে? অতুল যেত্রা এখনও এই চার্চ সদস্যদের অন্তর আলো করে আছে। অনিয়ম অরাজকতার বিরুদ্ধে তার যে পরিচ্ছন্ন অবস্থান ছিল সেটা সদস্যদের মনে দাগ কেটে আছে। তাদের বিশ্বাস অন্যায় অনিয়ম অরাজকতা করা যতটা সহজ, আর সমর্থন করাও যতটা সহজ, একজন অতুল যেত্রা হয়ে ওঠা তাদের পক্ষে ও অন্যদের পক্ষে অত সহজ না।

২.

চার্চ সদস্যরা কি বিশ্বাস করে? তারা বিশ্বাস করে, বিগত দিনগুলোতে যারা এ চার্চকে নেতৃত্ব দিয়েছে, এখন নিজেদের টিকে থাকা ও ভাল থাকার জন্য নিজেরা নিজেরা একাত্মা হয়ে, সিন্ডিকেট হয়ে, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অনিয়মকেই নিয়ম করে রেখেছে। চার্চের আবাসন ‍চুক্তি অনুযায়ী চুক্তি শেষ হলেও আবাসন ছেড়ে যায় নি। আবাসন ভাড়াও (যদিও নামমাত্র) মাসের পর মাস পরিশোধ করে নি। এখনও করছে না। এদিকে ভাড়া উত্তোলনে কমিটি ব্যর্থ হচ্ছে। কঠোরও হতে পারছে না। ট্রেজারি খাতায় বকেয়ার পর বকেয়া পড়ছে। ফান্ড শূন্য। ডোনার নেই। একমাত্র আয়ের উৎস আবাসন থেকে যে ভাড়া ওঠার কথা, ওঠে না, দেয় না। সিন্ডিকেট দখল করে আছে। 

কমিটির সভাপতিদের একজন বলছিলেন, প্রতি মাসে যে বিদ্যুৎ ও পানি বিল দিতে হয় সেটাও ধার-কর্য করে, বা, নিজেদের পকেট থেকে দিতে হয়। আর ইদানীং চার্চকে কেন্দ্র করে যে অভিযোগ উঠেছে আমরা লজ্জায় পড়ে গেছি। আমাদের কাছে কিছু প্রমাণও এসেছে। চার্চ থেকে প্রতিবাদ পাঠানো হলেও আমরা এভাবে দায়িত্ব এড়াতে পারি না। চার্চ ও প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না। এই অনিয়ম অরাজকতাকে কেন্দ্র করে সেদিন আমাদের এক পালক পা. সুদর্শন মারাক গীর্জায় আগতদের সামনে মৌখিকভাবে বলে গেলেন, উনি ও উনার পরিবার চার্চে আর আসবেন না, চার্চের সাথে আর সম্পর্ক রাখবেন না। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা ধাক্কা। এটা আমাদের বড় পরাজয়।

বছরের পর বছর যে সিস্টেম চলে আসতেছে বিগত দিনগুলোতে বিগত কমিটিগুলো এ নিয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি, অথবা, নিতে পারে নি। আমরা কমিটিতে নতুন এসেছি, নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে, আমরা চার্চের কল্যাণ স্বার্থকেই এগিয়ে রাখবো। দেখা যাক কতদূর এগোতে পারি।

আর রুলস ও রেগুলেটরি অনুযায়ী প্রতি বছর চার্চে অডিট হওয়ার কথা, কোন বছরেই হয় নি। কেন হয় নি, স্বীকার করে নিলেও চার্চ সংশ্লিষ্টদের কেউই এর উত্তর দিতে পারে নি।

Post a Comment

0 Comments