প্রভাবশালী গারো নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম- খেলারাম ভূঁইয়া। তিনি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কালিয়ানীকান্দা গ্রামে বসবাস করতেন।
শেরপুর এলাকা থেকে শতবছর পূর্বে এখানে এসে তিনি বসতি গড়ে তুলেছিলেন।
হালুয়াঘাটের যে
দু’জন গারো কয়েক শ একর জমির মালিক ছিলেন এদের একজন আচকিপাড়ার পরাণ শাহ, দ্বিতীয় জন এই খেলারাম ভূঁইয়া। উভয়েই সমসাময়িক বলে ধারণা করা হয়। খেলারাম ‘ঘাগ্রা’ মাহারির হওয়া সত্তেও কয়েক শ একর জমির মালিক হওয়ার কারণে তিনি ‘ভূঁইয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন।
তাঁকে নিয়ে এলাকায় নানা কিংবদন্তি এখনও প্রচলিত। তাঁর প্রচুর
টাকা ছিল। তিনি টাকা দিয়ে বিড়ি টানতেন। একবার তাঁর বাড়িতে ডাকাত আসে, তিনি ডাকাতদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোদের যা খুশি নিয়ে যা, কিন্তু কারো ক্ষতি করিস না।’
খেলারাম ভূঁইয়ার মেয়ে ছিল বেশ কয়েকজন। আর মেয়ের জামাইয়েরা ছিল বেকার ও অলস প্রকৃতির। সে কারণে তিনি জীবিত থাকতেই তাঁর অনেক ধন-সম্পত্তি শেষ হয়ে যায়।
খেলারাম ভূঁইয়া একজন পরোপকারী সমাজ নেতাও ছিলেন। অনেক গরীবকে তিনি থাকার জন্য নিজের জায়গা-জমি দান করে দিয়েছিলেন।
ঠিক কত সালে তিনি মারা গিয়েছিলেন, তা জানা সম্ভব হয় নি। পুকুরের পশ্চিম পাড়ে তাকে দাফন করা হয়েছিল। তাঁর কবরে ইট ও পাথরের ঢালাইয়ের ‘মঠ’ নির্মাণ করা হয়েছিল। জনশ্রুতি রয়েছে, খেলারাম ভূঁইয়ার কবরে বহু সোনা-রোপা ও কাঁচা টাকা দেওয়া হয়েছিল। এতে মানুষের লোভ জন্মে। সোনা-রোপা চুরি করার ফন্দি করে। তখন কবরে পাহারা বসানো হয়। চোর তো চুরি করবেই! চোরের দল দূর থেকে, মাটির নিচ দিয়ে খনন করে কবর পর্যন্ত চলে আসে। সোনা-রোপা ও টাকা-পয়সা চুরি করে নিয়ে যায়। মঠটি খুবই মজবুত ও দৃষ্টিনন্দন ছিল। কিন্তু মঠের নিচে মাটি খনন হওয়ার কারণে খু্ব কম সময়েই তা ধসে পড়তে থাকে। গত শতাব্দির শেষ সময়ে এ মঠটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
তথ্য সংগ্রহ ও ছবি: হালুয়াঘাট দর্পণ।


0 Comments