আদিবাসী দিবসকে ঘিরে আচিক/গারোদের আত্ম-পরিচয়ের সংকট প্রকট হয়ে উঠছে। অনেকে নিজেকে আদিবাসী পরিচয় দিয়ে গর্বিত হন, অনেকে আদিবাসী পরিচয়কে জাতীয় পরিচয়ের সংকট মনে করেন। অনেকের মতো আমার মনেও প্রশ্ন, তাহলে আমাদের একক বা ইউনিক পরিচয় কি?
যারা নিজেকে আদিবাসী দাবি করেন, তারা দেশপ্রেম থেকে নিজেকে এই এলাকার আদি বাসিন্দা হিসেবে আদিবাসী পরিচয় দেন। কারণ প্রায় ৪০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে ব্রহ্মপুত্রের এপারে গারোরা বসতি স্থাপন করে। এই হিসেবে অপরাপর জাতিগোষ্ঠী যারা দেশের অন্য এলাকাগুলোতে অগ্রে বসতি স্থাপন করেছেন তারাও সেই অর্থে আদিবাসী। সমস্যার সৃষ্টি এখান থেকেই। কারণ সংখাগুরুরা কোনভাবেই নিজেকে আদিবাসী পরিচয়ে পরিচিত করাতে রাজি নন, কারণ আদিবাসি শব্দটা আক্ষরিক অর্থে যতটা শ্রুতিমধুর তাত্বিকভাবে ঠিক তার বিপরীত।
আদিবাসী শব্দ উচ্চারণের সাথে সাথে চোখে ভেসে ওঠে পৃথিবীর বঞ্চিত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী যারা শিক্ষায় অনেক পিছিয়ে, যাদের নিজস্ব পুরোনো সংস্কৃতি বিদ্যমান কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া নেই, নিজস্ব্ প্রাগৈতিহাসিক নীতি ও মূল্যবোধ রয়েছে, গলায় পশুর হাড়ের মাদুলি অলংকার হিসেবে ব্যবহার করে, ঢাল তলোয়ার-বল্লম নিয়ে দাড়িয়ে থাকে তারাই আদিবাসী (অনেকে আবার এটা নিয়ে আন্তর্জাতিক বানিজ্য করে, জাতীর নামের পরিবর্তে আদিবাসী পরিচয় দেয়)।
ভারতে গারোদের আত্ম-পরিচয় শুধুমাত্র গারো বা আচিক, কারণ আমরা তাই। আত্ম-পরিচয় নিয়ে বানিজ্য চলে না। আমি একজন গর্বিত গারো/আচিক, অচিক জাতিত্বকেই আমি প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আপনি কি চান? আদিবাসি হবেন, নাকি আচিক/গারো হবেন?
লেখাটি শেয়ার করুন...


0 Comments