ঢাকায় বসবাসকারী গারোরা অনেকেই বাসাভাড়া ছেড়ে দিয়ে মেসে ওঠছেন ‖ খু•রাং

খুরাং দআমেক

ঢাকা শহরের নদ্দা কালাচাঁদপুর জগন্নাথপুর কোকাকোলা নতুনবাজার নূরেরচালা শাহজাদপুর ও বাড্ডায় বসবাসকারী গারোরা বাসাভাড়া ছেড়ে দিয়ে অনেকই বউ বাচ্চা-কাচ্চাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন আর নিজেরা ওঠছেন মেসে। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন তাদের চাকরি নেই, বেতন নেই, ভর্তুকি দিয়ে এভাবে কতদিন চলবেন? বাসার মালিকরা বাসা ভাড়া বকেয়া মানতে চান না। তাদের সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেন। মান-সম্মানের ন্যূনতম বালাই রাখেন না। বাধ্য হয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, বাসা ছেড়ে দিয়ে মেসে ওঠছেন।

কেউ কেউ বলছেন, অনেকেই কয়েক মাস ধরে বাসা ভাড়া দিতে পারছেন না। অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অন্যদিকে বাসা ভাড়া দিতে না পাড়ায় যাতে পালিয়ে যেতে না পারে এ-জন্য বাড়ির মালিকের কড়া নজরদারীতেও আছেন। একজন জানিয়েছেন, অনেকেরই চাকরি নেই, ইনকাম নেই, সঞ্চয়ের টাকা ভেঙে ঘর ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ মিটাচ্ছেন। কিন্তু এভাবে কতদিন? এ-জন্য যাদের সাথে সম্পর্ক ভাল তাদের বলেছিলাম, অনেকেই বাসা ভাড়া ছেড়ে দিচ্ছে, বউ বাচ্চা-কাচ্চাদের গ্রামের বাড়িতে রেখে আসতেছে, তোমরাও করো। কিন্তু কে শুনে কার কথা!

যদিও ৩১ মে থেকে সবকিছু খুলে দিয়েছে কিন্তু পরিস্থিতি তো আর স্বাভাবিক হয় নি। উল্টো দিন যত যাচ্ছে পরিস্থিতি তত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, হ্রাস টেনে রাখা যাচ্ছে না। আর এ এলাকায় বসবাসকারী গারোরা অধিকাংশই বিভিন্ন ফরেনারদের হাউজে, এম্বাসিতে, ক্লাবে, রোস্তোরাগুলোতে কাজ করে, আর এসব এখন বন্ধ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে খুলবে বলেও মনে হয় না। আর ফরেনাররা তো কবেই নিজ দেশে ফিরে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আসবে বলেও মনে হয় না।

আর যে মেয়ে-মহিলারা পার্লারে কাজ করতো তারা আরও নাজুক অবস্থায় আছে। এখন কাজ নেই। চাকরি নেই। পার্লার বন্ধ। যাদের ছিল তাদেরকেও পার্লার মালিকরা কাজ ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে যেতে বলেছে। এমনকি দেশের বৃহত্তম পারসোনা পার্লারের মালিক দু’মাসে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে কাজ ছেড়ে বাড়িতে যেতে বলেছে। এ অবস্থায় তারা পড়েছে আরও বিপাকে। এর মধ্যে অনেকরই বাসা ভাড়া বকেয়া পড়েছে। তারা কি করবে অনেকেই কোন দিশা পাচ্ছেন না।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Post a Comment

0 Comments