বচন নকরেক’র চতুর্দশপদী
পাহাড়-টিলায় জীবন
ইঁদুরের মতো গর্ত খুঁড়ে গুহায় গুহায় মুখ
লুকাই। পাতে শুটকি-মাছ, জঙ্গলের কচু শাক
বনে বনে ঘুরি, রোদ-মেঘ, আবেগ ছোঁয়া বৈশাখ
দৃশ্যপটে তোমাকে টেনে আনি, কুয়োতলায় বুক
ভাসিয়ে সাঁতার কাটছো, কেউ দ্যাখছে না—আড়ালে
আমার বাড়ানো হাত! সুগোল মুখ, গভীর চোখে
উপরে তাকাচ্ছো, অধরে ঝরছে জল, ভেজা বুকে
ওড়না নেই! কেঁপে ওঠে শালিক, আবিষ্ট অনলে-
লুকাই। পাতে শুটকি-মাছ, জঙ্গলের কচু শাক
বনে বনে ঘুরি, রোদ-মেঘ, আবেগ ছোঁয়া বৈশাখ
দৃশ্যপটে তোমাকে টেনে আনি, কুয়োতলায় বুক
ভাসিয়ে সাঁতার কাটছো, কেউ দ্যাখছে না—আড়ালে
আমার বাড়ানো হাত! সুগোল মুখ, গভীর চোখে
উপরে তাকাচ্ছো, অধরে ঝরছে জল, ভেজা বুকে
ওড়না নেই! কেঁপে ওঠে শালিক, আবিষ্ট অনলে-
জল টলমল হাওর-বিল, ব্যাঙ-চিংড়ির লাফ
দুঃখ জমে থাকে পদ্মপাতায়, দুঃখমোচন চেয়ে
পাহাড়-টিলায় জীবন, আলো-আঁধারি ধ্বংস খেলা
সাদা-কালো-হলুদ সাতপাঁচ ভেবে কী আছে লাভ?
রূপোর মোহর সোনার মোহর মুঠো ভরে পেয়ে...
দ্যাখো, গ্রহ রূপী পৃথিবীটাই স্বর্গ-মর্তের ভেলা-
দুঃখ জমে থাকে পদ্মপাতায়, দুঃখমোচন চেয়ে
পাহাড়-টিলায় জীবন, আলো-আঁধারি ধ্বংস খেলা
সাদা-কালো-হলুদ সাতপাঁচ ভেবে কী আছে লাভ?
রূপোর মোহর সোনার মোহর মুঠো ভরে পেয়ে...
দ্যাখো, গ্রহ রূপী পৃথিবীটাই স্বর্গ-মর্তের ভেলা-
বনচারী
এখানে ঝাউবন দেবদারুবীথি না থাক, আছে
নিবিড় শালবন। উদাস চৈত্র দিনের পাতায়
বাজে শুকনো পাতার মরমরে কোরাস সঙ্গীত!
গুলতি, ছুরি নিয়ে পাখির বাসা খুঁজতে বেরোয়
স্কুল পালানো শৈশব। গামার কাঠের উল্কি আঁকা
পীড়ি, মৌন শিল্পরুচি- থেকে থেকে ভাবাচ্ছে আমায়;
কে যেন বুনে রেখে গেছে ছনের বন। হরিণের
পায়ের ছাপ গুনে শিকারিরা ঘুরছে বাগানের
বাঁকে বাঁকে—দৌড়ে পার হচ্ছে খালের সাঁকো- জ্যোৎস্নায়...
বাঁশঝাড় খোঁপা-খুলে মাথা দোলায় বৃষ্টি-মুখর
আষাঢ়ে অন্ধকারে—কেউ দ্যাখে না শুধু কবি দ্যাখে
জ্যোৎস্না পোড়া মুখে গাছে গাছে উড়ে ভূত-প্রেত-পরী
না থাক ময়ূরপঙ্খি, মন আমার চিরহরিৎ
উল্কি এঁকে রেখে যাবো, আগচি-গামারি গাছে গাছে—
নিবিড় শালবন। উদাস চৈত্র দিনের পাতায়
বাজে শুকনো পাতার মরমরে কোরাস সঙ্গীত!
গুলতি, ছুরি নিয়ে পাখির বাসা খুঁজতে বেরোয়
স্কুল পালানো শৈশব। গামার কাঠের উল্কি আঁকা
পীড়ি, মৌন শিল্পরুচি- থেকে থেকে ভাবাচ্ছে আমায়;
কে যেন বুনে রেখে গেছে ছনের বন। হরিণের
পায়ের ছাপ গুনে শিকারিরা ঘুরছে বাগানের
বাঁকে বাঁকে—দৌড়ে পার হচ্ছে খালের সাঁকো- জ্যোৎস্নায়...
বাঁশঝাড় খোঁপা-খুলে মাথা দোলায় বৃষ্টি-মুখর
আষাঢ়ে অন্ধকারে—কেউ দ্যাখে না শুধু কবি দ্যাখে
জ্যোৎস্না পোড়া মুখে গাছে গাছে উড়ে ভূত-প্রেত-পরী
না থাক ময়ূরপঙ্খি, মন আমার চিরহরিৎ
উল্কি এঁকে রেখে যাবো, আগচি-গামারি গাছে গাছে—


0 Comments