বেশ কিছুদিন ধরে ‘ঢাকা ক্রেডিটে জুন মাস পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া কিস্তি প্রদান করা যাবে’ শিরোনামের একটি সংবাদ
চোখে পড়ছে। যতবারই চোখে পড়ছে, মনে চিন্তার ভাজ ও সংশয়ও বাড়ছে। বারবারই এটা ভাবছি যে, ঢাকা ক্রেডিট আরও সংবেদনশীল ও আশাজাগানিয়া সংবাদ সদস্য-সদস্যাদের দিত পারত
কিনা? সংবাদটি চলমান পরিস্থিতির সাথে যায় কিনা, সুবিবেচনা প্রসূত কিনা, মানুষের জন্য
কল্যাণকর কিনা? এ নিয়ে ঢাকা ক্রেডিট আরও গভীর ও গুরুত্ব দিয়ে অগ্রসর হতে পারত
কিনা?
এসব ভাবছি,
কেননা এক ব্যবসায়ী আছেন, যিনি আমার পরিচিত। আমরা একসাথেই ব্যবসা করি। সে টাটা কোম্পানীর
দু'টি ছোট এইচ পিকআপ কিস্তিতে নিয়ে দীর্ঘদিন ব্যবসায় কাটাচ্ছে। এই দুর্যোগ সময়ে গাড়ি
চলা তো দূর, ব্যবসায় বন্ধ হয়ে আছে। কোম্পানিও কিস্তি নিচ্ছে না। উল্টো বলে রেখেছে,
কিস্তির চিন্তা আপাতত নয়। আগে বাঁচুন। নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। পরে কিস্তি নেওয়া
যাবে। টাটা কোম্পানি কিস্তি নেওয়াই স্থগিত রেখেছে।
অপরদিকে আশেপাশের
যেসব ছোট ছোট সমিতি দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক কিস্তি দোকানে, বাসায়, প্রতিষ্ঠানে গিয়ে
আদায় করছে সে-সব সমিতিও এ-সময় কিস্তি আদায় স্থগিত রেখেছে। কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।
কিন্তু দেশের সবচেয়ে সেরা ও বৃহত্তম ঢাকা ক্রেডিট নোটিশ করছে ‘ঢাকা ক্রেডিটে জুন মাস পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া কিস্তি প্রদান করা যাবে’! এর চেয়ে উত্তম ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত
ও সংবাদ যেন ঢাকা ক্রেডিটের হাতে নেই! ঢাকা ক্রেডিটও কি পারে না সেইসব অখ্যাত ও ছোট
ছোট সমবায়গুলোর মতো অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে? আপদকালীন দুর্যোগে সকল লেনদেন ও
কিস্তি স্থগিত রাখতে?
প্রতিষ্ঠালগ্ন
থেকে ঢাকা ক্রেডিট হয়ত এরকম সময় পার করে নি। এযাবৎ এই প্রতিষ্ঠানের অর্জনও নস্যি নয়।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অর্থনৈতিকভাবে হয়ত সবাইকে ছাড়িয়েও। সুনাম খ্যাতিও দেশব্যাপী।
কিন্তু সময় অন্যরকম। মানুষ বিপদে। তাদের হাতে কাজ নেই। আয়-রোজগার শূন্য। ব্যবসা বন্ধ।
এই দুর্যোগ কালে মানুষ কেবল স্বস্তির আশ্বাস শুনতে চায়। ছড়ি ঘোরানো কথা নয়। দুর্যোগ
দুর্দিনকে প্রায়োরিটি দিয়ে ঢাকা ক্রেডিটের উচিত মানুষের কথা আগে ভাবা। মানুষের চাহিদাকে সর্বাগ্রে রাখা।
ঢাকা ক্রেডিটে
জুন মাস পর্যন্ত
জরিমানা ছাড়া কিস্তি প্রদান করা যাবে নয়, কিস্তিসহ সকল লেনদেনের স্থগিতাদেশ আশু চাই। এই স্বস্তি বাক্যই মানুষ এখন শুনতে চায়।
কার্তিক ঘাগ্রা।
লেখাটি শেয়ার করুন...


0 Comments