প্রমোদ মানকিন’র ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ‖ খু•রাং



প্রমোদ মানকিন! এই নাম উচ্চারণের সাথে সাথে আমাদের সাব-কনসাস মাইন্ডে যে ছবি অবধারিত চলে আসে তিনি ছিলেন একজন নেতা। তারপর চলে আসে তিনি ছিলেন আমাদের নেতা, আওয়ামী লীগের নেতা এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। আরও চলে আসে তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক, আইনজ্ঞ ও এডভোকেট।


২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ১১ মে মুম্বাইয়ের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে দূরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি পরলোকগমন করেছিলেন। তখন তার বয়স হয়েছিল ৭৭। তিনি জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১৮ এপ্রিল নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকালজোড়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম ছিল মেঘা তজু এবং মা হৃদয় শিসিলিয়া মানকিন। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম।

১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে বিএ পাস করে তিনি ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজে হতে বিএড শেষ করে হালুয়াঘাটের বিড়ইডাকুনী হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এর পর ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নিয়ে তিনি ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতিরও সদস্য হন।


ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭১ -এর স্বাধীনতা যুদ্ধেও তিনি সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং মেঘালয়ের শিববাড়ি শরণার্থী শিবিরে ৫০ হাজার বাংলাদেশি শরণার্থীর দেখাশোনা করেন।

১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। এর পর জাতীয় সংসদে ময়মনিসংহ -১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন ৪ টার্ম। রাজনীতিতে এসেই তিনি ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে সাংসদ নির্বাচিত হন। পরে ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদে আসেন।

পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে তিনি আরেক কিংবদন্তী গারো নেতা জোয়াকিম আশাক্রার মেয়ে মমতা আরেং-কে ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে বিয়ে করেছিলেন। তাঁদের সংসারে পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। একমাত্র ছেলে জুয়েল আরেং পিতার মৃত্যুর পর একই আসনে সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন।

এই নেতার মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও অশেষ শ্রদ্ধা।

কার্তিক ঘাগ্রা।

লেখাটি শেয়ার করুন...


Post a Comment

0 Comments