নক্ষত্র ‖ কাবেরী স্নাল ‖ খু•রাং


গারো মান্দি আচিক—যে নামেই ডাকি না কেন, আমাদের এ সমাজে যে কতিপয় নক্ষত্র উদিত হয়েছে, তার মধ্যে তর্পণ ঘাগ্রার নাম অন্যতম! তাঁর আলোতে গারো জাতি আজ আলোকিত। 

তিনি প্রভাত চন্দ্র রিছিল ও ফুলকুমারী ঘাগ্রার পুত্র। ২৩ মে ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জন্ম। এ নিরহঙ্কার ব্যক্তি মানুষের জন্য, নিজের জাতির জন্য ও সমাজের জন্য নিরলস ও নিঃস্বার্থভাবে সেবামূলক কাজ করে চলেছেন। তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার নীজ গ্রাম বারমারীতে একটি হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও শিক্ষকতা করেন (উল্লেখ থাকে যে, তিনি স্কুল থেকে কোনো সম্মানি নিতেন না)।

পরবর্তীতে স্কুলটি এমপিও ভুক্ত হলে সবকিছু থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি তেইজে ব্রাদারদের সঙ্গে থেকে ঈশ্বরের সেবাসহ গারো জাতি ও সমাজের সেবা কাজে নিজেকে অদ্যাবধি নিয়োজিত করেন।

তর্পণ ঘাগ্রা

“তাঁর লিখিত বই ‘গিৎচাম কাৎথা’ (পুরোনো কথা) গারো জাতির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ-এর মাঝে সেতুবন্ধন স্বরূপ। পৌরাণিক কাহিনী, কল্প কাহিনী, লোক কাহিনি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যাই বলি না কেন, যেটা হারিয়ে যেতে বসেছিল, সেটা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে, যেখানে গেলে খাঁটি নির্যাস কথা পাবে, সেখানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ও ঘটনার স্থান চিহ্নিত করে, অর্থাৎ আসল জায়গা চিহ্নিত করে লিখে আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন।”


যারা ভাল কাজ করেন, সমাজের জন্য ভালকিছু চিন্তা করেন, সমাজের উন্নতির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, যারা প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখে, যারা সম্মান পাওয়ার যোগ্য, তাদের প্রশংসা ও যোগ্য সম্মান দিতে কখনও কার্পণ্য করা উচিত নয়। একজনের ভাল কাজে প্রশংসা ও সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান দিলে আপনার সম্মান কমবে না, বরং বাড়বে।

তাঁর লিখিত বই ‘গিৎচাম কাৎথা’ (পুরোনো কথা) গারো জাতির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ-এর মাঝে সেতুবন্ধন স্বরূপ। পৌরাণিক কাহিনী, কল্প কাহিনী, লোক কাহিনি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যাই বলি না কেন, যেটা হারিয়ে যেতে বসেছিল, সেটা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে, যেখানে গেলে খাঁটি নির্যাস কথা পাবে, সেখানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ও ঘটনার স্থান চিহ্নিত করে, অর্থাৎ আসল জায়গা চিহ্নিত করে লিখে আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর লেখা ‘গিৎচাম কাৎথা’র গুচ্ছ কাহিনী ‘রান্দি মিকচি গালচেংআ বা বিধবার কান্না’ একটি অসাধারণ মানবিকতার রীতিনীতি ও অসাধারণ মানবিকতারই পরিচয় পাই!

আমাদের পূর্ব পুরুষদের এতো সুন্দর মানসিকতা, সুন্দর সৃষ্টি, আহা... মরি... মরি... এতো রূপ, এতো মাধুর্য, এতো মর্মস্পর্শী...! কোন নির্বোধেরা বলে আমাদের পূর্ব পুরুষরা বর্বর, মূর্খ, অশিক্ষিত ও অসভ্য? যারা আজ ডিজিটাল যুগে বাস করছে, তারা সমাজের জন্য কি করছে? না পারছে নিজের উন্নতি করতে, না পারছে সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে!

তবে যাই হোক, বইটি খুব সমৃদ্ধ। আমাদের প্রেরণা যোগাবে। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য। পরিশেষে শ্রদ্ধেয় তর্পণ ঘাগ্রাকে স্যালুট।

Post a Comment

0 Comments