![]() |
| অর্চনা নকরেক |
অর্চনা নকরেক টাঙ্গাইল মধুপুর উপজেলার ৪ নং কুড়াগাছা ইউনিয়নের একজন নির্বাচিত জন প্রতিনিধি। সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে তিনি নির্বাচিত হন। প্যানেল চেয়ারম্যানেও রয়েছে তার নাম। কিভাবে জড়িত হলেন রাজনীতিতে? জানতে চাই। বলেন, ‘আমাদের এলাকাটা অনেক দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে। রাজনৈতিকভাবে কি মহিলা কি পুরুষ পিছিয়ে, তৎপর নয়; এসব ভেবেই রাজনীতিতে জড়িত হওয়া। আর গ্রামে মহিলাদের নিজেদের মধ্যে একটি সমিতি ছিল। সমিতির সবাই উৎসাহ যুগিয়েছেন।’
সাত বছর আগে প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়ান তিনি, সেবার মাত্র সাত ভোটের ব্যাবধানে হেরে গিয়েছিলেন। দ্বিতীয়বার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলো নিজের এলাকায় বরাদ্দ এনে সঠিকভাবে বিতরণের। বলেন, একজন পুরুষ মেম্বারের এলাকা একটি গ্রাম কিন্তু একজন মহিলা মেম্বারের এলাকা তিনটি গ্রাম নিয়ে; সে হিসেবে বরাদ্দ যথেষ্ট হয় না। ধরাটি, সাইনামারী, নয়নপুর এ তিনটি গ্রাম নিয়ে ১, ২, ৩ বন্টক অর্চনা নকরেকের নির্বাচনী এলাকা। পাশাপাশি আদিবাসী এলাকা রাজঘাটিও পড়েছে তার সীমানায়। জানতে চাই, চেয়ারম্যান বা অপরাপর পুরুষ মেম্বারদের সাথে সম্পর্ক কেমন? জানান, অনেক সময় গুরুত্ব দিতে চায় না আমাদের মহিলা মেম্বারদের। আন্দোলন করে কাজ আদায় করে নিতে হয়। আমি আন্দোলন করি। আমার দেখাদেখি এখন তারাও ( অপর দুই মহিলা মেম্বার) আন্দোলন করে। উল্লেখ্য, অপর দুই মহিলা মেম্বার বাঙালি জনগোষ্ঠীর।
জন প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে অর্চনা নকরেকের একটি মুদি- চায়ের দোকান ছিল। এখন তিনি রাজনীতিতে ফুলটাইমার। দোকান ভালই চলত। আপাতত বন্ধ রেখেছেন। ধরাটি বাজারে অল্প একটু জায়গা রয়েছে অর্চনা নকরেকের। ইচ্ছে আছে, নিজের জায়গায় ঘর তুলে দোকান আবার চালু করবেন। আগে দোকান দিতেন ঘর ভাড়া নিয়ে। তিনি বলেন, এ পদ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে। তখন কি নিয়ে ব্যস্ত থাকব? মানুষ তো নির্বাচনে নতুন মুখ চাইতে পারে। তবে অর্চনা নকরেকের চাওয়া, এ আসনে পরবর্তীতে আদিবাসীদের মধ্য থেকেই কেউ জিতে আসুক।
পরাগ রিছিল: কবি, গবেষক।


0 Comments