ঢাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গারোরা আছে চরম দুর্বিপাকে : ঘরে খাবার নেই, ত্রাণও নেই ‖ খু•রাং


নদ্দা, কালাচাঁদপুর, জগন্নাথপুর, কোকাকোলা, নতুন বাজার, নূরেরচালা, শাহজাদপুর, বাড্ডা এলাকা ব্যতিরেকে ঢাকার যেসব বিভিন্ন জায়গায় গারোরা বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে আছে তাদের অনেকেই জানাচ্ছেন, দিন যত গড়াচ্ছে সমূহ অনিশ্চয়তা ও হতাশা তাদের গ্রাস করছে। এরকম দিন দেখতে হবে কোনদিন তারা ভাবেন নি। ইতোমধ্যে করোনা কালের জন্য তাদের যে আয়োজন বন্দোবস্ত ছিল সেসব সামগ্রীও ফুরিয়ে আসছে। সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে, করোনার জন্য কতদিন এভাবে ঘরে আটকে থাকতে হবে, এসব চিন্তাই এখন তাদের মাথার ওপর দুঃশ্চিন্তার রেখা হয়ে দেখা দিয়েছে।

কেউ কেউ বলছেন, এ অবস্থা আরও কিছুদিন চললেই তারা বিপদে পড়ে যাবে। এ ছাড়াও মাস শেষ হয়ে আসছে, সামনে বাড়ি ভাড়া (নামক মরার ওপর খাঁড়ার ঘা) দেওয়া লাগবে, খাদ্যের ন্যূনতম যোগান নিশ্চিত করা লাগবে। কোথা থেকে, কীভাবে এসব সংস্থান করবে, এসব চিন্তাই এখন তাদের ভেতরকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে।

কি করবে, নগর জীবনে এই দিশাই আজ তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। যারা ত্রাণ বিতরণ করছে তারাও বাড়ির মালিক স্থানীয় ভোটারদের আইডি কার্ড সংগ্রহ করছে, ত্রাণও তাদেরকে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারের ঘোষণা ও নির্দেশ কোথাও মানা হচ্ছে না। বাড়াটিয়াদের বা বহিরাগতদের ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে না।

বাড়ি চলে যাবে সে উপায়ও নেই। সারাদেশে পরিবহন বন্ধ। অন্যদিকে উপায়ান্তর না দেখে যারা বিভিন্ন উপায়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন তারাও জনপ্রতি দশগুণ, কোথাও আরও বেশি টাকা গুণে, খরচ করে চলে যাচ্ছেন। আর যারা যেতে পারছেন না, তারা আছেন দুঃশ্চিন্তার অসীম বিভীষিকায়। চার দেয়ালের ঘরে তাদের প্রতি মূহুর্ত কাটছে সামনের দিনগুলো কীভাবে পাড় করবেন এই দুঃশ্চিন্তায়।

কেউ কেউ এরকম আক্ষেপ করেও বলছেন, অনেকের মুখে তারা শুনেছেন, কারিতাস ও ফাদাররা যেসব এলাকায় গারোরা বেশি- নদ্দা, কালাচাঁদপুর, জগন্নাথপুর, কোকাকোলা, নতুন বাজার, নূরেরচালা, শাহজাদপুর, বাড্ডা, এ এলাকাগুলোতে সাহায্য সহযোগিতা করছেন কিন্তু তাদের কাছে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে কেউ এগিয়ে আসছেন না। অন্য সময়গুলোতে সাহায্য প্রাপ্তির আশায় তারা হয়ত এভাবে মুখিয়ে থাকতেন না, কিন্তু বাস্তবতা এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা কাজের উদ্দেশ্যে ঘর হতে বের হতে পারছেন না। মাসের টাকা মাসেই ফুরিয়ে যায়। বাস্তবতার কাছে আজ তারা পরাজিত, কিংকর্তব্যবিমূঢ়। মন থেকেই চাইছেন সাহায্য বা ত্রাণ নিয়ে তাদের কাছেও কেউ আসুক, না-হলে চলছেই না।


কার্তিক ঘাগ্রা।

Post a Comment

0 Comments