মেঘালয়েও এ পরিবর্তন এখন চোখে পড়ছে, তাদের মহিলা সমিতিগুলো শুধু যে মুখে বলছে, তা-না। সামাজিক শৃঙ্খলা, সামাজিক কাঠামো, পারিবারিক কাঠামো ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকে চাপে রেখে মহিলা সমিতিগুলো রাস্তায়, মহল্লায়, বাজারে, এমন কি ঘরোয়াভাবে কেউ যদি চু পান করে হৈ-হল্লা করছে, অন্যের অশান্তির কারণ হচ্ছে, আর এ নিয়ে কেউ যদি মৌখিক নালিশ করেছে অমনি মেঘালয় পুলিশ প্রশাসন সেসব মদ্যপ ব্যক্তিদের ধরে নিয়ে থানা-হাজতে রাখছে। এক-দু’দিন বাদে মুছলেখা দিয়ে তাদের ছাড়া পেতে হচ্ছে।
মেঘালয় মহিলা সমিতিগুলো বলছে, আমরা সমাজে শৃঙ্খলা আনতে চাই। সামাজিক পারিবারিক কাঠামো মজবুত দেখতে চাই। রাস্তায়, মহল্লায়, বাজারে কেউ মাতাল হয়ে আছে দেখতে চাই না। সমাজে পরিবারে শৃঙ্খলা নষ্ট করছে দেখতে চাই না। আমরা আমাদের সমাজে সভ্য সমাজের উপাদানগুলো দেখতে চাই। আমাদের চেতনাগুলোকে চেতনাকাঠামোই রূপান্তরিত দেখতে চাই। আমরা কেন অন্য জাতি-গোষ্ঠীকে বিয়ে করবো না, নিজেদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ কীভাবে জাগ্রত করা যায়, সর্বস্তরে এসব নিয়ে নিয়মিত আলোচনা কর্মশালা করতে চাই। এ জন্য আমরা আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। আমরা পরিবর্তন আনতেছি। মোটাদাগে সমাজে এর সুফল আমরা পেতে শুরু করেছি। মানুষ ভাবতে শুরু করেছে, চু মানুষের নৈতিকতা বোধকে নষ্ট করে। সন্মানকে, ব্যক্তিত্বকে ক্ষুণ্ন করে। নিজেকে অন্যের কাছে ছোট করে। এগিয়ে চলাকে ব্যহত করে।
তারা বলছে, আমাদের এ উদ্যেগের ফসল আমরা হাতে হাতে পেতে শুরু করেছি। রাস্তায়, মহল্লায়, বাজারে এখন কেউ মদ্যপ অবস্থায় মাতাল হয়ে পড়ে থাকে না। হৈ-হল্লা কিংবা পাড়াতে ঝগড়া-ফ্যাসাদের ঘটনা ঘটে না। মানুষ বুঝতে শুরু করেছে এমনটি হলে এখন নিজেরই সমস্যা হচ্ছে। পুলিশি ঝামেলাই পড়তে হচ্ছে। সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে। রাজ্য সরকারও আইন করেছে, যারা বিজাতি বিয়ে করেছে, করছে তারা ও তাদের সন্তান সন্তুতিরা গারো পরিচয়ে পরিচিত হতে পারবে না। তারা রাজ্যের বিশেষ বিশেষ সুবিধাগুলো পাবে না। একসময় বিজাতি বিয়ে করাও থাকবে না। মোটকথা বড় অর্থেই আমরা আমাদের সমাজে পরিবর্তন আনতে পারতেছি।
কার্তিক ঘাগ্রা।
লেখাটি শেয়ার করুন...


0 Comments