সাম্প্রতিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ‖ পরাগ রিছিল ‖ খু•রাং



ভাবি, আমাদের মুক্তিযোদ্ধা ফাজং-কাকারাও কেন এভাবে পরিচয় করিয়ে দেয় নি, ধানুয়া-কামালপুর?- ও এই তো কাছেই! সেখানেও আমাদের গারো গ্রাম রয়েছে। শুনেছি, ধানুয়া-কামালপুর যমুনার চরের কাছে। হলদীগ্রাম? শেরপুরের শেষ সীমানা জামালপুরের কাছে। সেসব অবশ্য সত্যও বটে। এখানে আসতে আসতে আয়ুর গড় হিসাবে জীবনের প্রায় অর্ধেক বয়স চলে গেল!

ভৌগোলিকভাবে যারা একটু দূরে বসবাস করেন, কেন আমরা তাদের দূরত্বে রাখি?

ধানুয়া কামালপুর জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার একটা ইউনিয়ন। একেকটা বড় গ্রাম তিন-চারটা পাড়ায় বিভক্ত হয়ে কখনো নতুন গ্রাম হিসেবেই পরিচিত হতে চায়! এসব বাদেও ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ৪-৫টি গারো গ্রাম রয়েছে। শেষপ্রান্তের গ্রাম হিসাবে আমরা শুনি, বালিঝুরি, দীঘলাকোনা বা সংনাতপাড়া এসব নামগুলো।



তারাও তো আমাদেরই অংশ। গিয়ে দেখি, মায়ের এক ছাত্রী আইলাতলীর মনি সেখানে বউ গেছে। সনদ দ্রং দাদা- ক্লাসমেট বিচিত্রা দ্রং-এর ভাগ্নী। বরুয়াজানির এক রিছিল বোন সে এলাকার বউ। পাঁচগাও থেকে জামাই এসেছেন আরেক রিছিল। টিচার স্টাফ মায়েদের সহকর্মী তেনজিলা দি...।

সেসব গ্রামে গিয়ে সবচেয়ে যে জিনিসটা বেশি ভাল লেগেছে, প্রত্যেক বাড়ির উঠোনে শুকোতে দেয়া কাপড়ের মধ্যে দেখতে পাই দকমান্দা, নিজস্ব ওরনা। রাস্তা দিয়ে যারা বাজারে যাচ্ছিল তাদের পরনেও নিজস্ব পোশাক। গ্রামে বাড়ির পাশে ধুলোমাটিতে যেসব ছোট বাচ্চা ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করছিল তাদের মুখ দিয়ে পিওর গারো ভাষা বের হচ্ছে অনায়াস অনর্গল! তুলনায় যার হার আমাদের কমন গড়পরতা গ্রামগুলোর নিজস্ব ভাষা চর্চা থেকে অনেক বেশি। আমরা এ দু’টো জিনিস শিখতে পারি নিজেদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখা এসব গ্রামগুলো থেকেই!

পরাগ রিছিল: কবি ও গবেষক।

Post a Comment

0 Comments