বয়ান - ১
“তখন ‘টেও’ করে একটা শব্দ হয়। শব্দ শুনে পেছন থেকে কেউ একজন বলছিল, গুলি করেছে... গুলি করেছে...! তৎক্ষণাৎ আমি আমরা কেউই কিছুই বুঝতে পারি নি। এর আগে তো আমরা রাইফেলের গুলির শব্দই শুনি নি। শব্দ শুনতে কিরকম এসবের কিছুই জানি না। তখন আমাদের বয়স সতের-আটের। একেবারে তরতাজা যুবক আর কি!
![]() |
| ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের ৩ জানুয়ারি মধুপুর ইকোপার্ক আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ববরণকারী উৎপল নকরেক। |
আমরা মিছিলের অগ্রভাগে কৌশল হিসেবে স্কুল পড়–য়া ছোট ছোট মেয়েদের ব্যানার ফেস্টুন হাতে রেখেছিলাম যাতে বনরক্ষী বাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা গুলি বা আক্রমণ না করে। এর পর রেখেছিলাম মহিলা ও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া মেয়েদের। তার পরের সারিতেই আমরা যুবকরা ছিলাম। এর কিছুক্ষণ পরই টেও টেও করে আরও অনেকগুলো শব্দ হয়।”
উৎপল নকরেক।
বয়ান - ২
“কিম্মার এদিক (উত্তর-পশ্চিম) থেকে আমরা মিছিলের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে এসে ওদিক (উত্তর-পূর্ব) থেকে আসা মিছিলের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ওই মিছিলটা আসতে দেরি করছিল। কেন দেরি করছিল, এটা দেখার জন্যে আমাদের কেউ কেউ ওদিকটাই এগিয়ে গিয়েছিল।
![]() |
| ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের ৩ জানুয়ারি মধুপুর ইকোপার্ক আন্দোলনে বনরক্ষী পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ পীরেন স্নালের সমাধি। |
কিম্মার এদিকে (দক্ষিণ-পশ্চিম) একটা ড্রেন ছিল। এই ড্রেনের মধ্যেই বনরক্ষী পুলিশ সদস্যরা শুয়ে মিছিলের দিকে রাইফেল তাক করে রণসাজে ছিল। তাদের প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছিল তারা যুদ্ধক্ষেত্রে এসেছে, আমরা এগোলেই গুলি করবে, আক্রমণ করবে। মিছিলের সামনে ছোট ছোট মেয়েরা—মুন নকরেকরা ছিল, তখন সে ছোট। তখনই একটা শব্দ হলো। আমাদের মনে হয়েছিল পটকা ফুটেছে! মূহুর্তেই এটা ছড়িয়ে পড়ল। ততক্ষণে আমরাও জেনে গেছি ‘মান্দি গাকজক’। তবে কে বা কারা কারা তখনও জানি না। ওইদিকে পুলিশদের সাথে ‘মাথা ফোলা’ ছিল। এই ‘মাথা ফোলা’ই গুলি করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল।”
ওয়েলসন নকরেক।



0 Comments