বসন্ত আজ জাগ্রত দ্বারে ‖ কাবেরী স্নাল ‖ খু•রাং


কাবেরী স্নাল

কোনো কোনো কবি-সাহিত্যিকদের মনের কথা, মাঘের সন্ন্যাসী রিক্ত হস্তে চলে গেছে ঝড়া পাতার কান্না নিয়ে, তাই ব্যথাহত ও বসন্ত বন্দনায় বিমুখ!

আর এদিকে বসন্ত বিপুল সমারোহে সম্ভাবনাময় দিগন্ত উন্মোচন করে দ্বারে উপস্থিত! পুরোনো ও সদ্য গজিয়ে ওঠা নাম না জানা কবি থেকে শুরু করে যত সাহিত্যিক, সংস্কৃতিমনা ও প্রকৃতি প্রেমিকগণ বসন্ত বন্দনায় বিভোর! যে যার অবস্থানে থেকে তাঁরা বসন্ত বন্দনায় ব্যতিব্যস্ত। সবার মর্মার্থ এক, কিন্তু আবেদন রাখার ভঙ্গিমা আলাদা আলাদা। যারা জ্ঞান সাগর অবধি পৌঁছেছে তাঁরা চিরকালীন বিশ্বে আসন গেড়েছে।

অনেক কবি সাহিত্যিক নিজস্ব মহিমায় ভাস্বর হয়ে আছে!

কবি রবী ২ ফাল্গুন, ১৩০২-এ তাঁর বিখ্যাত কবিতা ১৪০০ সাল লিখেছেন

‘কত কথা পুষ্পপ্রায় বিকশি তুলিতে চায় 
কত অনুরাগে
একদিন শতবর্ষ আগে।
আজি হতে শতবর্ষ পরে
এখন করিছে গান সে কোন নূতন কবি
তোমাদের ঘরে?
আজিকার বসন্তের অভিবাদন 
পাঠায়ে দিলাম তাঁর করে।
আমার বসন্ত গান তোমার বসন্ত দিনে
ধ্বনিত হউক ক্ষণতরে।’

কবির একান্ত ইচ্ছা, উচ্ছ্বল ও বাঁধা বন্ধনহীন নবীনদের তাদের কোনও এক উদাসীন মূহুর্তে যেন তাঁর রচনাবলি পাঠ করে, আর উপলব্ধি করে যে শতবর্ষ আগেও কোনও এক কবি তাদেরই মনোজগতে ছবি এঁকে গিয়েছেন ও তাদেরই জয়গান গেয়ে গিয়েছেন।

এ কবিতাও রবী ঠাকুর যুগ যুগ ধরে, শতাব্দী থেকে শতাব্দী মানুষের মনোজগতে চির অম্লান হয়ে থাকবে!

প্রমথ চৌধুরীও বলেছেন, ‘এ যুগে যে জাতির জ্ঞানের ভা-ার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী।’

‘তারপর যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।’ সমাজকে সভ্য ও প্রগতিশীল করতে হলে সাহিত্য চর্চার বিকল্প নেই, একথা প্রবন্ধকার বার বার আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

বাইবেলেও লেখা আছে (হিতোপদেশ ৩ : ১৩-১৬ পদে) ‘ধন্য সেই লোক যে সুবুদ্ধির খোঁজ পায়, আর বিচার বুদ্ধি লাভ করে, কারণ তাতে রূপার ব্যবসার চেয়েও বেশি লাভ পাওয়া যায়, সোনার চেয়েও তাতে বেশি লাভ হয়; প্রবাল পাথরের চেয়েও সুবুদ্ধি বেশি দামি, তোমার চাওয়ার মতো কোন জিনিসের সঙ্গে তার তুলনা হয় না। তার ডান হাতে আছে অনেক আয়ু বাঁ হাতে আছে ধন আর সম্মান।’

প্রকৃতি আজ অপরূপা ও সমৃদ্ধ, তার সাথে আমরাও নিজেদের বিপুল জ্ঞানসম্ভারে সাজিয়ে সমৃদ্ধ করতে পারি।

সবাইকে বসন্তের ফুলেল শুভেচ্ছা।

Post a Comment

0 Comments