![]() |
| মধুপুরের সাইনামারী গ্রামের সফল সবজি চাষী লিজুস রেমা। ছবি : ওয়েলসন নকরেক। |
প্রতিদিন ক্ষেত থেকে সবজি তুলে তা বাছতে হয়। বাছাবাছির এ কাজ চলে রাত ১০টা পর্যন্ত, তারপর ঘুম। ভোরে উঠে প্রয়োজন হলে আবার সবজি তুলেন। তারপর সেগুলো বস্তাবন্দী করে বাজারে রওয়ানা দেন। যেদিন বাজারে যাওয়া হয় না সেদিন ক্ষেতেই কাজ করেন। সারাদিন পানি দেওয়া, সার কীটনাশক দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
উপরের এ রুটিনটি লিজুস রেমার, যিনি সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার সাইনামারি গ্রামে। সাইনামারি গ্রামে লিজুস এখন যুবকদের মধ্যে আদর্শ বলা যায়।
তার শিম ক্ষেতে হাঁটতে হাঁটতেই কথা হচ্ছিল সবজি চাষ নিয়ে। লিজুস রেমা এ চাষাবাদের সাথে যুক্ত আছেন ১০ বছর ধরে। পড়াশোনায় তেমন ভাল ছিলেন না বলে ১০ম শ্রেণির পর লেখাপড়া আর চালিয়ে যেতে পারেন নি। এর কয়েক বছর পরই বিয়ে হয়ে যায়।
“৩ বছরের জন্য ৩ বিঘা জমি লিজ নিয়ে নিজের দুই বিঘাসহ ৫ বিঘা জমিতে সবজি আবাদ করছেন। বছরে দু’টি মৌসুমে সবজি চাষ করেন। বর্ষা মৌসুমে চিচিঙ্গা এবং করলা আর শীত মৌসুমে শিম। এখন তিনি প্রতি মৌসুমে চার লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেন। সব খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ থাকে ২২৫,০০০ টাকা।”
বিয়ের পর সংসারের খরচ চালাতে কয়েক বছর দিন মজুরের কাজ করেন। কিন্তু এতে পোষাচ্ছিল না। স্বাধীনভাবে আয় করার তাড়না থেকেই সবজি চাষটাকে বেছে নিলেন। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে স্থানীয় একটি ক্রেডিট ইউনিয়ন থেকে ৬,০০০ টাকা ঋণ নেন। সেই টাকা দিয়ে ১ বিঘা জমি লিজ নিয়ে শিম চাষ করেন। কিন্তু পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে সেবার ফলন ভাল হয় নি। ফলত লোকসানের মুখে পড়েন। এভাবে আরো দুই বছর তিনি লাভের মুখ দেখেন নি। লিজুস রেমাও দমে যান নি। ৩ বছরের অর্জিত অভিজ্ঞতা নিয়ে ৪র্থ বছরে আবার শুরু করলেন। এবার খরচ বাদ দিয়ে কিছু টাকা হাতে থাকল। এভাবে আস্তে আস্তে ঋণের টাকা শোধ করে আবার ঋণ নেন। এ ধারাবাহিকতায় লিজুস শেষবার এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে ৩ বছরের জন্য ৩ বিঘা জমি লিজ নিয়ে নিজের দুই বিঘাসহ ৫ বিঘা জমিতে সবজি আবাদ করছেন। বছরে দু’টি মৌসুমে সবজি চাষ করেন। বর্ষা মৌসুমে চিচিঙ্গা এবং করলা আর শীত মৌসুমে শিম। এখন তিনি প্রতি মৌসুমে চার লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেন। সব খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ থাকে ২২৫,০০০ টাকা। তার বাগানে এখন দৈনিক ৪-৬ জন লোক কাজ করছে।
এ কাজে কেমন বোধ করেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ‘আমার কথা হলো, আমি পরের অধীনে কামলা কাটব না। ছোট-খাটো যাই করি, নিজে কিছু করছি এটাই আমার আনন্দ।’ কথা বলার সময় তার চোখ-মুখের দীপ্তিই বলে দিচ্ছিল এ সেক্টরে তিনি কত সন্তোষ্ট। তাকে দেখে আর কেউ উৎসাহিত হয় কিনা জানতে চায়লে তিনি বলেন, ‘নাহ, কেউ উৎসাহিত হয় না। আসলে গারোরা একটু ঝুঁকি নিতে ভয় পায়।’
লিজুস সব্জি বিক্রি করেন মধুপুর এবং ধনবাড়ির আড়তে। আড়তে বিক্রি করলে সঠিক মূল্য পান। ভ্যান আর সাইকেলে করে মাল নিয়ে যান। আড়াই মনের নিচে হলে সাইকেলেই নিয়ে যান।


0 Comments