বিবর্তনে রোহিঙ্গা, একটি টকশো ও গারোদের জন্য রোহিঙ্গা সহানুভূতি ‖ দেবাশীষ স্নাল ‖ খু•রাং

মিডিয়া খুবই পজিটিভ ভুমিকা রেখেছে, সঠিক সময়ে বাসন্তী রেমার খবরটা দেশবাসীকে জানিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এমনি একটি টকশো প্রচারিত হয়েছে ৭১ টিভিতে, যেখানে মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় আরো পাঁচজন আলোচক অংশগ্রহণ করেছে।

আলোচকদের মধ্যে সঞ্জীব দ্রং খুবই যুক্তিযুক্ত সাবলীল আলোচনা করেছেন। উনার আলোচনায় উঠে এসেছে গারো জনগোষ্ঠী কিভাবে শতবর্ষ ধরে চিরহরিৎ বন সংরক্ষণ করে আসছে সেই গল্প। সেই সাথে দেশীয় আন্তর্জাতিক আইন কিভাবে ভূমিজ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে তা আলোচনা করেন। তাঁর আলোচনায় সরকার বনবিভাগের অন্যায্যতা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।


শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাঁর জীবনের সাক্ষ্য দিয়ে দেখিয়েছেন বাসন্তী রেমা বংশ পরম্পরায় এই ভূমির উপর চাষাবাদ করে আসছেন।

আলোচক জিয়াউর রহমান ছিলেন সত্যিকারের গবেষক যিনি পরিবেশ মানুষের সম্পর্ক বিষয়ে সচেতন। রাষ্ট্র কিভাবে তার নাগরিকদের অধিকার হরণ করে তা তিনি বর্ণনা করেন।

আলোচনায় সবচেয়ে এলোমেলো মনে হয়েছে গারো ছাত্র সংগঠনের সভাপতিকে। তিনি সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতে পারছিলেন না যেকোন কারণে। মনে হচ্ছিল, কথাগুলো মনের ভেতর থেকে আসছে না। মুদ্রাদোষে (বারবার মানে মানে উচ্চারণ) বাক্যগুলোকে দুর্বল করেছে। আরো এক জায়গায় তিনি স্বীকার করে নেন সাংবাদিকদের বুদ্ধিতে বনবিভাগকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্য বাধ্য করান। আমার কাছে মনে হয়েছে এই স্বীকারোক্তির দরকার ছিল না, যা এই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বা কারো ইন্ধন বলে ভুল করতে পারে। আশা করি ভবিষ্যতে বিবেচনায় রাখবে। এটা হতে পারে অভিজ্ঞতার কারণে এমন হয়েছে।

সবচেয়ে কষ্টদায়ক বিষয় ছিল, আলোচক রফিকুল সাহেবের বারবার রোহিঙ্গা ইস্যুর সাথে দেশের সন্তানদের তুলনা করা। তিনি বারংবার বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে সরকারি জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে, সরকার প্রশংসিতও হয়েছে, তাহলে গারোদের প্রতি কেন মানবিক হবে না? আপনার উদ্দেশ্য নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু দয়াকরে ভূল বুঝবেন না, গারোরা রোহিঙ্গা নয়। গারো জনগোষ্ঠী ভূমিজ সন্তান। সবুজ পাসপোর্টের অধিকার আমাদের আছে। ভূমিজ জনগোষ্ঠী সহানুভূতি চায় না, এটা আমাদের অধিকার। রোহিঙ্গাদের সাথে তুলনা করলে এই মুক্তিযোদ্ধা জনগোষ্ঠীকে অপমান করা হবে। রোহিঙ্গারা এ দেশের নাগরিক না, তাদের সাথে কোন কারণে গারোদের তুলনা চলে না। আমরা আমাদের জন্মগত অধিকার নিয়ে দেশ গড়ি। কেউ যদি এভাবে ভূমিজ সন্তানদের উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা বানায়, নিশ্চয় আপনারা প্রতিবাদ করবেন-সেটা হোক টকশো অথবা চায়ের টেবিলে।

লেখাটি শেয়ার করুন...

Post a Comment

0 Comments