প্রায় দু’মাস হয়ে গেলেও মিলে নি সেই অজ্ঞাত মহিলার পরিচয় ও স্বজনদের খোঁজ ‖ খু•রাং


ওয়েলসন নকরেক, ময়মনসিংহ

প্রায় দু’মাস হয়ে গেলেও খোঁজ মিলে নি ময়মনসিংহের সে-ই অজ্ঞাত মহিলার পরিচয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ ব্রীজ বাসস্ট্যান্ডের পাশে পড়ে থাকা অবস্থায় কয়েকজন লোক উদ্ধার করে তাকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে। পরে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। খবরটি গারো ছাত্র সংগঠনগুলোর কাছে পৌঁছুলে তারা তা ফেসবুকে মহিলার ছবিসহ পোস্ট করে মহিলাটিকে শনাক্তকরণের চেষ্টা চালায়। পরে তেইজে ব্রাদার হাউজ থেকে ব্রাদার এরিক মিকরাকবো সংগঠনের রুমা থিগিদীসহ আরো কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এভাবেই ধীরে ধীরে ময়মনসিংহ ক্যাথিড্রাল চার্চ, কারিতাস পর্যন্ত খবরটি পৌঁছায়। ময়মনসিংহ ক্যাথিড্রাল চার্চের ক্যাটিখিস্ট হেরিশন চাম্বুগং, কারিতাসের কর্মকর্তা এডভোকেট দীনেশ দারু, যতীশ নকরেক মহিলাটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ক্যাটিখিস্ট হেরিশন চাম্বুগং ও আদিবাসী নারী কল্যাণ সংস্থার কো-অর্ডিনেটর চেংসি মৃ এর সাথে কথা বলে এ তথ্যগুলো জানা যায়।

এক মাসেও মহিলাটিকে শনাক্ত করা যায় নি তার কারণ তিনি কথা বলতে পারেন না। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মহিলাটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৭নং ওয়ার্ডের একটি বেডে শুয়ে আছেন। ফেকাসে মুখ, চোয়াল দেবে গেছে, রুগ্ন শরীর। কপালে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সব মিলিয়ে অসহায় একজন মানুষের আর্তি তার চেহারায়। আমার সাথে থাকা সুবিয়ান নকরেক পায়ের অংশের কম্বল সরিয়ে দিতেই দেখি ডান পায়ে রড আর স্ক্রু লাগানো। মানে হাড় ভেঙ্গেছে। এটা দেখেই কেমন আছে জিজ্ঞেস করার সাহস হলো না। তার পাশে রাখা হাসপাতালের কাগজগুলো নাড়াচাড়া করলাম কিছুক্ষণ। কীভাবে আঘাত পেয়েছেন তা জানা গেল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন। বয়স লেখা আছে, ৪০ বছর। দুপুরে কিছু খেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে মাথা নেড়ে নাকচ করেন। তার পাশে রাখা রুটি খাওয়াতে চাইলে খেতে অনীহা প্রকাশ করেন। বাড়ি যেতে চায় কিনা জিজ্ঞেস করার সাথে সাথে মাথা নেড়ে ‘না' বলে মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেন। বাড়ি বা আত্মীয়-স্বজন সম্পর্কিত কোন প্রশ্নেরই আর কোন সাড়া দিলেন না। অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে রইলেন।

এদিকে এক মাস হয়ে গেলেও কেউ তাকে শনাক্ত না করায় কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন কেন? তিনি কি আদৌ গারো সম্প্রদায়ভুক্ত? যদি তাই হয় তাহলে ফেসবুকে এতো এতো মানুষের শেয়ার করার পরও কেউ তাকে চিনতে পারছে না কেন? আবার গারো না হলে গারো ভাষায় করা প্রশ্নগুলোতে সাড়া দিচ্ছেন কীভাবে? চেংসি মৃ জানিয়েছেন, মহিলাটি তাদের সামনে ক্রুশের চিহ্ন করে দেখিয়েছেন। তার মানে তিনি ক্যাথলিক অথবা অক্সফোর্ড চার্চের। এরকমটি হলে ধরে নেয়া যায় তিনি গারো। আবার হেরিশন চাম্বুগং ধারণা করছেন, মহিলাটি বানাই বা কোচ হতে পারে। বানাই বা কোচদের মধ্যে কি খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী আছে? যদি থাকে তাহলে ধর্মপল্লীগুলোর পাল পুরোহিতেরাই ভাল বলতে পারবেন।

এখন তিনি গারো, কোচ বা বানাই যে জাতিরই হোন না কেন সংশ্লিষ্ট সকলেই চাই তার পরিচয়, ঠিকানা বা আত্মীয়-স্বজনের সন্ধান মিলুক। যদি কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারে তাহলে ময়মনসিংহের ভাটিকেশরে ক্যাথিড্রাল চার্চের ক্যাটিখিস্ট হেরিশন চাম্বুগং-এর সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তার মোবাইল নম্বার ০১৭৩২৭৪৪০৮৭।

Post a Comment

0 Comments